নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জীবনী
“তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব”, “দিল্লি চলো” এইসব বিখ্যাত উক্তি শুনলে যার কথা মনে পড়ে তিনি আর কেউ নন, আমাদের প্রিয় দেশনায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু।
নেতাজি নামটির সঙ্গে ভারতবর্ষের প্রতি ভালোবাসা, দৃঢ়তা, লড়াকু মনোভাব, প্রতিবাদ এবং মানুষের প্রতি স্নেহ ও দয়ালু মনোভাব জড়িয়ে রয়েছে।
ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। তাঁর রাজনৈতিক জীবন, আজাদ হিন্দ ফৌজের নেতৃত্ব এবং স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামের আহ্বান ভারতের ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়।
এক নজরে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্ম ও পরিবার
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দের ২৩ জানুয়ারি ওড়িশার কটক শহরে বিখ্যাত বসু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
বসু পরিবারের আদি নিবাস ছিল পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার কোদালিয়া অঞ্চলে।
তাঁর পিতা জনকীনাথ বসু ছিলেন একজন ভারতীয় আইনজীবী। তিনি আইনজীবী হিসেবে কর্মরত থাকার সময় ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বের সংস্পর্শে আসেন।
তাঁর মা প্রভাবতী দেবী ছিলেন সমাজসেবামূলক চিন্তাধারার অধিকারী। পরিবারের দেশপ্রেম ও মানবিক পরিবেশ সুভাষচন্দ্রের চরিত্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সুভাষচন্দ্র বসু ছিলেন তাঁর পিতা-মাতার চৌদ্দ সন্তানের মধ্যে নবম সন্তান এবং ষষ্ঠ পুত্র।
তাঁর ভাইদের মধ্যে ছিলেন সুরেশচন্দ্র বসু, সুধীরচন্দ্র বসু, ড. সুনীলচন্দ্র বসু, শরৎচন্দ্র বসু, শৈলেশচন্দ্র বসু এবং সন্তোষচন্দ্র বসু।
শৈশব থেকেই তিনি অত্যন্ত মেধাবী ও কৌতূহলী ছিলেন। ছোটখাটো বিষয় নিয়েও তাঁর মনে নানা প্রশ্ন জাগত। একই সঙ্গে তাঁর মধ্যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর শিক্ষা জীবন
১৯০২ সালে সুভাষচন্দ্র বসু কটকের Protestant European School-এ ভর্তি হন। বিদ্যালয়টি ছিল ইংরেজি মাধ্যমের এবং সেখানে ইউরোপীয় ও অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি ছিল।
বিদ্যালয়ে লাতিন, বাইবেল, ব্রিটিশ ভূগোল ও ব্রিটিশ ইতিহাস পড়ানো হতো। তবে বাড়িতে তিনি মায়ের কাছ থেকে রামায়ণ, মহাভারত ও ভারতীয় সংস্কৃতির বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করেন।
১৯০৯ সালে তিনি কটকের Ravenshaw Collegiate School-এ ভর্তি হন। এই বিদ্যালয়ে বাংলা ও সংস্কৃত পড়ানো হতো।
১৯১২ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাট্রিক পরীক্ষায় তিনি দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন।
১৯১৩ সালে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে দর্শন নিয়ে ভর্তি হন। ক্যান্ট, হেগেলসহ বিভিন্ন পাশ্চাত্য দার্শনিকের চিন্তাধারা নিয়ে পড়াশোনা করেন।
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ব্যক্তিগত জীবন
১৯৩৪ সালে ভিয়েনায় সুভাষচন্দ্র বসুর সঙ্গে এমিলি শেঙ্কল-এর পরিচয় হয়। পরবর্তীকালে তাঁদের বিবাহ হয়।
১৯৪২ সালের ২৯ নভেম্বর তাঁদের কন্যাসন্তান অনিতা বসু পাফ জন্মগ্রহণ করেন।
অনিতা বসু পাফ পরবর্তীকালে জার্মানিতে অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত হন।
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর রাজনীতি
সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় চতুর্থ স্থান অর্জন করেও ব্রিটিশ সরকারের অধীনে চাকরি গ্রহণ করেননি সুভাষচন্দ্র বসু। ইংল্যান্ড থেকে দেশে ফিরে তিনি স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দেন।
১৯১৯ সালের জালিয়ানওয়ালা বাগ হত্যাকাণ্ড এবং রাওলাট আইনের প্রভাব তাঁর রাজনৈতিক চিন্তাকে আরও তীব্র করে তোলে।
দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস ছিলেন তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম প্রধান পথপ্রদর্শক। ১৯২৪ সালে কলকাতার মেয়র চিত্তরঞ্জন দাসের অধীনে তিনি কাজ করেন।
১৯২৫ সালে ব্রিটিশ সরকার তাঁকে গ্রেফতার করে মান্দালয় জেলে পাঠায়। রাজনৈতিক জীবনে তাঁকে একাধিকবার কারাবরণ করতে হয়।
১৯২৭ সালে মুক্তির পর তিনি জওহরলাল নেহরুর সঙ্গে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন।
১৯২৮ সালে কলকাতায় কংগ্রেসের অধিবেশনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং কংগ্রেস স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর নেতৃত্ব দেন।
১৯৩০ সালে তিনি কলকাতার মেয়র নির্বাচিত হন।
১৯৩৮ সালের হরিপুরা অধিবেশনে তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হন।
১৯৩৯ সালে ত্রিপুরী কংগ্রেসে তিনি পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হলেও মহাত্মা গান্ধী ও কংগ্রেসের একটি অংশের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক মতপার্থক্য তীব্র হয়। শেষ পর্যন্ত তিনি সভাপতি পদ থেকে সরে দাঁড়ান।
১৯৩৯ সালে তিনি ফরওয়ার্ড ব্লক প্রতিষ্ঠা করেন। এই সংগঠনের মাধ্যমে তিনি ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামকে আরও তীব্র করার চেষ্টা করেন।
সুভাষচন্দ্র বসুর সমাজতান্ত্রিক চিন্তা
সুভাষচন্দ্র বসুর রাজনৈতিক চিন্তায় সমাজতন্ত্র একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছিল। স্বাধীনতার পর তিনি এমন একটি সমাজব্যবস্থার কথা চিন্তা করেছিলেন যেখানে অর্থনৈতিক বৈষম্য কমবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতি হবে।
জাতি, বর্ণ ও ধর্ম নির্বিশেষে সকল মানুষের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি গুরুত্ব দিয়েছিলেন।
স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ভূমিকা
১. রাজনৈতিক জীবনের প্রথম পর্যায়
ছোটবেলা থেকেই সুভাষচন্দ্র বসু ব্রিটিশবিরোধী মনোভাব পোষণ করতেন। ICS পরীক্ষায় সাফল্য অর্জনের পরও ব্রিটিশ সরকারের চাকরি প্রত্যাখ্যান করে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামে যুক্ত হন।
দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের নেতৃত্বে তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। কংগ্রেসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করেন।
২. ভারত ত্যাগ
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন সুভাষচন্দ্র বসু।
ব্রিটিশ সরকারের নজরবন্দি থাকা অবস্থায় তিনি ১৯৪১ সালের জানুয়ারিতে গোপনে ভারত ত্যাগ করেন।
কাবুল ও সোভিয়েত অঞ্চল হয়ে তিনি জার্মানিতে পৌঁছান।
৩. জার্মানিতে নেতাজি
জার্মানিতে অবস্থানকালে তিনি ভারতের স্বাধীনতার পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করেন।
বার্লিন রেডিওর মাধ্যমে তিনি ভারতবাসীকে ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামে উৎসাহিত করেন।
৪. জাপানে নেতাজি
পরবর্তীকালে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের সম্ভাবনা দেখে তিনি জাপানের দিকে যাত্রা করেন।
সেখানে বিপ্লবী রাসবিহারী বসু ও অন্যান্য ভারতীয় নেতাদের উদ্যোগে গড়ে ওঠা ভারতীয় জাতীয় সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।
ভারতীয় জাতীয় সেনাবাহিনী ও আজাদ হিন্দ ফৌজ
ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে আজাদ হিন্দ ফৌজের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নেতাজির নেতৃত্বে এই বাহিনী ভারতের স্বাধীনতার প্রশ্নকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যায়।
আজাদ হিন্দ ফৌজের গঠন
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভারতীয় যুদ্ধবন্দীদের নিয়ে রাসবিহারী বসু ও ক্যাপ্টেন মোহন সিংয়ের উদ্যোগে ভারতীয় জাতীয় সেনাবাহিনী গড়ে ওঠে।
পরবর্তীকালে সুভাষচন্দ্র বসু এই বাহিনীর নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং এটিকে আরও সংগঠিত ও শক্তিশালী করেন।
আজাদ হিন্দ ফৌজের আদর্শ
আজাদ হিন্দ ফৌজের লক্ষ্য
আজাদ হিন্দ ফৌজের মূল লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়ে ভারতকে স্বাধীন করা। জাপানি সাহায্য নিয়ে ভারত অভিযান চালিয়ে দিল্লির দিকে অগ্রসর হওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
আজাদ হিন্দ ফৌজের সংগঠন
- গান্ধী ব্রিগেড
- আজাদ ব্রিগেড
- নেহরু ব্রিগেড
- সুভাষ ব্রিগেড
- ঝাঁসির রানী ব্রিগেড
ঝাঁসির রানী ব্রিগেড ছিল আজাদ হিন্দ ফৌজের নারী বাহিনী। এই বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন লক্ষ্মী স্বামীনাথন।
আজাদ হিন্দ সরকার প্রতিষ্ঠা
১৯৪৩ সালের ২১ অক্টোবর সুভাষচন্দ্র বসু সিঙ্গাপুরে আজাদ হিন্দ সরকার প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি এই সরকারের প্রধান ও আজাদ হিন্দ ফৌজের সর্বাধিনায়ক ছিলেন।
জাপান, জার্মানি, ইতালি সহ কয়েকটি রাষ্ট্র এই অস্থায়ী সরকারকে স্বীকৃতি দেয়।
১৯৪৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে তিনি ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। দ্বীপগুলির নাম শহীদ ও স্বরাজ রাখা হয়।
আজাদ হিন্দ বাহিনীর অভিযান
সুভাষচন্দ্র বসু আন্দামান থেকে ব্রহ্মদেশের দিকে যান এবং ভারত অভিযান শুরু করেন।
আজাদ হিন্দ ফৌজ অগ্রসর হয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পৌঁছায়। মণিপুরের মৈরাং-এ জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
এই আহ্বান আজাদ হিন্দ ফৌজের সৈনিকদের মধ্যে প্রবল উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। তবে যুদ্ধের পরিস্থিতি, সরবরাহের সমস্যা এবং প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার কারণে ইম্ফল অভিযান সফল হয়নি।
আজাদ হিন্দ ফৌজের আত্মসমর্পণ
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে জাপানের পরাজয়ের ফলে আজাদ হিন্দ ফৌজের জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। জাপানের কাছ থেকে সামরিক সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আজাদ হিন্দ ফৌজ শেষ পর্যন্ত আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়।
যদিও সামরিক অভিযান সফলভাবে স্বাধীনতা আনতে পারেনি, তবুও আজাদ হিন্দ ফৌজ ভারতীয়দের মধ্যে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ও আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তুলেছিল।
স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতাজির অবদান
ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর সাহসিকতা, সংগঠন ক্ষমতা, দেশপ্রেম এবং স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগের আহ্বান ভারতীয় জাতীয়তাবাদকে নতুন মাত্রা দেয়।
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যু রহস্য
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মৃত্যুকে ঘিরে বহু বছর ধরে বিতর্ক ও নানা মত রয়েছে।
প্রচলিত ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, ১৯৪৫ সালের ১৮ আগস্ট তাইহোকু বিমানবন্দরের কাছে একটি বিমান দুর্ঘটনায় তিনি গুরুতরভাবে আহত হন এবং পরে তাঁর মৃত্যু হয় বলে দাবি করা হয়।
তবে তাঁর মৃত্যু সম্পর্কে বিভিন্ন তদন্ত কমিশন ও গবেষণায় ভিন্ন ভিন্ন মত প্রকাশিত হয়েছে।
নেতাজির মৃত্যুর বিষয়ে ভারত সরকারের বিভিন্ন তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছিল। শাহনওয়াজ কমিটি, খোসলা কমিশন এবং মুখার্জি কমিশন এই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে।
তাই নেতাজির মৃত্যুর বিষয়ে ঐতিহাসিক বিতর্ক ও জনমতের বিভিন্নতা এখনও বিদ্যমান।
নেতাজির অন্তর্ধান নিয়ে গুমনামি বাবা বা ভগবানজিকে কেন্দ্র করেও নানা দাবি ও তত্ত্ব সামনে এসেছে। তবে এসব দাবির ঐতিহাসিক সত্যতা নিয়ে মতভেদ রয়েছে।
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর কিছু বিখ্যাত বাণী
- “তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব।”
- “দিল্লি চলো।”
- “Freedom is not given, it is taken.”
- “Give me blood and I will give you freedom.”
- “Remember that the greatest crime is to compromise with injustice and wrong.”
- “It is our duty to pay for liberty with our own blood.”
- “A true soldier needs both military and spiritual training.”
স্বাধীনতা নিয়ে বার্তা
স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের গুরুত্ব বোঝাতে নেতাজি তরুণ সমাজকে সাহসী ও আত্মবিশ্বাসী হওয়ার আহ্বান জানান।
এগিয়ে চলার বার্তা
বাহ্যিক আড়ম্বর নয়, আত্মশক্তি ও সাহসী পদক্ষেপের মাধ্যমেই জীবনের বড় লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব বলে তাঁর চিন্তায় প্রতিফলিত হয়।
আজাদ হিন্দ ফৌজ নিয়ে বার্তা
আজাদ হিন্দ ফৌজকে তিনি দৃঢ় সংগঠন ও অদম্য সাহসের প্রতীক হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন।
সংগ্রাম নিয়ে বার্তা
জীবনে সংগ্রাম ও ঝুঁকি না থাকলে জীবনের মূল্য ও উদ্দীপনা অনেকটাই ফিকে হয়ে যায়।
জীবনদর্শন নিয়ে বার্তা
সত্যের অনুসন্ধান এবং আদর্শের প্রতি অটল থাকা তাঁর জীবনদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল।
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে তৈরি সিনেমা ও সিরিজ
| নাম | সাল | ধরন |
|---|---|---|
| সুভাষচন্দ্র | ১৯৬৬ | সিনেমা |
| Netaji Subhas Chandra Bose: The Forgotten Hero | ২০০৪ | সিনেমা |
| Bose: Dead/Alive | ২০১৭ | টিভি সিরিজ |
| গুমনামি | ২০১৯ | সিনেমা |
| The Forgotten Army | ২০২০ | ওয়েব সিরিজ |
১. সুভাষচন্দ্র (১৯৬৬)
পীযূষ বোসের পরিচালনায় এই চলচ্চিত্রে নেতাজির জীবন, শৈশব, কলেজ জীবন, ICS পরীক্ষা, প্রাথমিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ব্রিটিশ পুলিশের গ্রেফতারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
২. নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু: দ্য ফরগটেন হিরো (২০০৪)
শ্যাম বেনেগালের পরিচালনায় নির্মিত এই চলচ্চিত্রে নেতাজির রাজনৈতিক জীবন, গান্ধীজির সঙ্গে মতপার্থক্য এবং জার্মানিতে তাঁর যাত্রার বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরা হয়।
৩. Bose: Dead/Alive (২০১৭)
নেতাজির অন্তর্ধান ও মৃত্যু রহস্যকে কেন্দ্র করে নির্মিত একটি টেলিভিশন সিরিজ।
৪. গুমনামি (২০১৯)
সৃজিত মুখোপাধ্যায় পরিচালিত এই চলচ্চিত্রে নেতাজির অন্তর্ধান ও মৃত্যু রহস্যের বিভিন্ন তত্ত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
৫. The Forgotten Army (২০২০)
আজাদ হিন্দ ফৌজের সৈনিকদের জীবন ও স্বাধীনতা সংগ্রামের বিভিন্ন অজানা দিককে কেন্দ্র করে নির্মিত ওয়েব সিরিজ।
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর রচনাবলী
- The Indian Struggle
- An Indian Pilgrim
- Congress President: Speeches, Articles and Letters
- Alternative Leadership
- The Call of the Motherland
- Letters to Emilie Schenkl
- Essential Writings of Netaji
- India as a Nation
- Indian Struggle 1920–1942
- Azad Hind: Writings and Speeches
- In Burmese Prisons
- Selected Speeches of Subhas Chandra Bose
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জীবনপঞ্জি
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
উপসংহার
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক অনন্য ও স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব। তাঁর সাহস, দেশপ্রেম, ত্যাগ, নেতৃত্ব এবং স্বাধীনতার জন্য আপসহীন সংগ্রাম ভারতীয়দের মনে আজও গভীরভাবে প্রভাব বিস্তার করে।
আজাদ হিন্দ ফৌজের নেতৃত্বের মাধ্যমে তিনি স্বাধীনতার আন্দোলনকে একটি আন্তর্জাতিক মাত্রা দিয়েছিলেন। তাঁর জীবন থেকে দেশপ্রেম, আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা, সাহস ও আত্মত্যাগের শিক্ষা পাওয়া যায়।
এই নিবন্ধটি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জীবন, শিক্ষা, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, আজাদ হিন্দ ফৌজ, স্বাধীনতা সংগ্রাম, রচনাবলী ও মৃত্যু-সংক্রান্ত প্রচলিত ঐতিহাসিক তথ্যের ভিত্তিতে বাংলা ভাষায় সাজানো হয়েছে।
নেতাজির মৃত্যু ও অন্তর্ধান সম্পর্কিত বিভিন্ন মত ও তত্ত্ব নিয়ে ঐতিহাসিক বিতর্ক রয়েছে। তাই এই অংশে প্রচলিত তথ্যের সঙ্গে বিতর্কিত মতগুলিকে পৃথকভাবে বিবেচনা করা উচিত।